কিভাবে প্রতিমাসে ২০০ ডলার আয় করবেন বাংলা ব্লগ থেকে

বাংলা ব্লগ থেকে আয়

আপনি যখন ডিজিটাল মাকের্টিং পেশার সাথে জড়িত থাকবেন তখন ব্লগিং বিষয়ে যে জানবেন সেটাই স্বাভাবিক। আমি বিগত ৮ বছর থেকে ডিজিটাল মাকের্টিং নিয়ে কাজ করছি। এবং আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু কথা শেয়ার করছি আশা করছি আপনার ভালো লাগবে। আলোচনার বিষয় হল বাংলা ব্লগ থেকে ২০০ ডলার আয় করার উপায়।

এবং আপনাকে সততার সাথে বলতে চাই আমি এখানে যা কিছুই উল্লেখ করব তা আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। হ্যা আমার থেকে আপনার অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতেই পারে। আমি সেই বিষয়ে তর্ক করতে চাই না। এবং তর্ক করাটা সঠিক হবে না, আপনার অভিজ্ঞতার উপর পরিপূর্ণ আস্থা রেখেই আমি কথা গুলো আপনার সাথে শেয়ার করতে চাই। এবং আমি আমার লেখার মূল উদ্দশ্য থেকে সরে যেতে চাই না।

বাংলা ব্লগ শুরু করার আগে যা জানা দরকার

আয় করার উদ্দশ্য নিয়ে ব্লগিং শুরু করতে চাইলে আপনাকে জানতেই হবে কিভাবে ব্লগিং শুরু করবেন। সঠিক ভাবে ব্লগিং শুরু করাটা খুবেই জরুরি। সঠিক ভাবে ব্লগিং শুরু করতে না পারলে কখনো সফলতা আসবে না।

প্রথমেই খুজে বের করুন কোন বিষয় গুলো মানুষ গুগলে বা অন্য সার্চ ইঞ্জিনে খোঁজে। কারন এমন বিয়ষ নিয়ে কখনো লেখা যাবে না, যা মানুষ খোঁজ করে না।

শুধু প্রয়োজনীয় টপিক গুলো নিয়ে ব্লগিং শুরু করলেই যে আপনি সফলতা পাবেন তা কিন্তু নয়। তাছারা সবার আগে আরও একটি বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন সেটা হল অনপেজ এসইও যা খুবেই গুরুত্বপূর্ণ।

একটা উদাহরন দেওয়া যাক : আপনি বর্তমানে পড়ছেন ”বাংলা ব্লগ থেকে কিভাবে 200 ডলার আয় করবেন” তা গুগলের কত নম্বর পেজে পেয়েছেন তা কিন্তু আমি জানি না। লেখার কোয়ালিটি ভালো হলে, আপনি এই লেখাটি ১ থেকে ১০ নম্বর ওয়েবসাইটের মধ্যে পাবেন। কিন্তু লেখার কোয়ালিটি ভালো না হলে ১ থেকে ১০ এর মধ্যে খুজে পাবেন না।

এখন প্রশ্ন হল কিভাবে লিখলে আমার লেখাটি গুগলের সার্চ রেজাল্টের ১ থেকে ১০ এর মধ্যে পাবেন। এই বিষয়টি নিয়ে কেউ সঠিক ভাবে বলতে পারবে না। হ্যা কিছু বিষয় অবশ্যই মাথায় রেখে লেখা শুরু করা যায়।

বাংলা বা ইংরেজী যে কোন ভাষায় ব্লগিং লেখা শুরু করুন না কেন। আপনাকে অবশ্যই ব্লগিং লেখার কৌশল জানতে হবে। সঠিক কৌশল ব্যবহার করে লেখা লিখতে পারলে আর কোন ধরনের সমস্যা থাকবে না।

দুই ভাবে বাংলা ব্লগিং শুরু করা যায়

সময় উপযোগি কন্টেন্ট : সময় উপযোগি কন্টেন্ট বলতে বুঝাতে চাচ্ছি বর্তমানে যা প্রচালিত। যেমন : যে কোন পরীক্ষা বা সরকারী বা বে-সরকারী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হলে মানুষ গুগলে গিয়ে সার্চ করে। আপনি চাইলে বর্তমানে যে সকল বিষয় কথা হচ্ছে সেই সকল বিষয় সহ বর্তমানে প্রচালিত যে কোন বিষয় নিয়ে লিখতে পারেন।

কিন্তু প্রচালিত বিষয় নিয়ে লেখার ক্ষেত্রে একটা সমস্যা আছে। সমস্যাটা হল যত ক্ষন পর্যন্ত বিষয়টি প্রচালিত থাকে তত ক্ষন পর্যন্ত ভিজিটর পাওয়া যায়। একটা সময় পর সেই লেখাটার উপর কোন ভিজিটর পাওয়া যায় না।

টিচ বা তথ্য বহুল কন্টেন্ট : মানুষ যে কোন প্রয়োজনে তথ্য খোজার জন্য গুগলকে ব্যবহার করে থাকে। হ্যা অনেক মানুষ অন্য সার্চ ইজ্ঞিন ব্যবহার করে থাকে।

আমি একটি আরটিক্যাল লিখলাম কিভাবে ডিজিটাল মাকের্টিং কোর্স করা শুরু করবেন। এই লেখাটি যেহেতু তথ্য মূলক সুতরাং আজীবন এই লেখার মধ্যে ভিজিটর পাওয়া যাবে।

কিন্তু এখানে আবার অনেক সমস্যা আছে যেমন আপনি একটি নতুন তথ্য মূলক বা শিক্ষা মূলক লেখা লিখে খুব সহজে গুগলে Rank করাতে পারবেন না। কমন বিষয় গুলো নিয়ে Rank করতে চাইলে চাই সঠিক পরিকল্পনা।

১ থেকে ১০ রেজাল্টের মধ্যে যে সকল লেখা আছে সকল লেখা নিয়ে রিসার্চ করতে হবে। বের করতে হবে তারা কেন গুগলের সার্চ রেজাল্টের প্রথমে আছে। অব্যশই সেই লেখা গুলোর মধ্যে এমন কিছু আছে যা গুগলের কাছে প্রয়োজনীয় মনে হয়েছে।

দেখুন আপনি আপনার প্রতিযোগির সাথে প্রতিযোগিতা করতে চাইলে প্রতিযোগির দূর্বল জায়গা খুজে বের করতে হবে। সঠিক ভাবে রিসার্চ করে কন্টেন্ট তৈরি করতে পারলে তা অবশ্যই গুগলের প্রথম পেজে আসবে।

ব্লগিং বিষয় ভুল ধরনা

আমাদের মধ্যে ৯০% ব্লগার মনে করে যত বেশি কন্টেন্ট আমার ওয়েবসাইটে থাকবে তত বেশি ভিজিটর আসবে। এটা সম্পূর্ণ ভাবে ভ্রান্ত ধারনা। যা কোন দিন সঠিক ছিল না সুতরাং এই ধারনা থেকে আপনাকে বের হয়ে আসতে হবে।

একটি ওয়েবসাইটের মধ্যে ১০০ টি লেখা থাকলে তার মধ্যে থেকে ১০ থেকে ১৫ টি লেখা থেকে শুধু আয় করা সম্ভব। হ্যা ভিজিটর ধরে রাখার জন্য অতিরিক্ত লেখার প্রয়োজন আছে কিন্তু তা খুব বেশি হওয়ার কথা নয়।

একটি উচ্চ মানের Keyword দিয়ে কন্টেন্ট লিখে গুগল পেজের ১ থেকে ১০ এর মধ্যে আসতে পারলে তার আয় হিসাব করে শেষ করতে পারবেন না।

তাহলে বিষয় টা দাঁড়ালো কন্টেন্ট সংখ্যা নয়। কন্টেন্ট মানের বিষয়টি আসল বিষয়। আপনার কন্টেন্ট মান যত বেশি ভালো হবে তত বেশি আয় করার সম্ভব হবে।

প্রয়োজনে একটি কন্টেন্ট লেখার জন্য ১৫ থেকে ২০ দিন সময় নিন। তারপরেও ভালো ভাবে সঠিক উপায়ে কন্টেন্ট লিখুন।

দ্বিতীয় ভুল : ৯৯% ব্লগার কন্টেন্ট লেখা শেষ করার পর মাকের্টিং করে না। কন্টেন্ট মাকের্টিং করাটা ব্লগের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক। প্রতিটি ব্লগ লেখা শেষ করার পর অবশ্যই সোস্যাল মিডিয়া প্লার্টফমে শেয়ার করতে হবে।

অনেক বড় কন্টেন্ট হতে হবে : এটা আসলে নির্ভর করবে আপনার লেখার বিষয় বস্তুর উপর। আমি এই লেখাটি লিখছি বাংলা ব্লগ থেকে কিভাবে ২০০ ডলার আয় করা যায়। মূলত আমার টাইটেলটি টিচ এবং ইনফরমেটিভ সুতরাং আমি চাইলে এর সাথে অনেক বিষয় এড করে কন্টেন্ট ওয়ার্ড সংখ্যা ২০০০ থেকে ৩০০০ পর্যন্ত করতে পারি।

সুতরাং কন্টেন্ট সংখ্যা কোন বিষয় নয়। আপনার লেখার টাইটেল অনুযায়ি বিষয় বস্তু গুলো সাজিয়ে লিখতে হবে। এক্ষেত্রে কন্টেন্ট সংখ্যার মান ২০০০ বা ৩০০০ কোন বিষয় নয়।

আপনাকে একজন প্রশ্ন করল বাংলায় ব্লগিং করে কি গুগল এড পাওয়া সম্ভব। এখন আপনি বলুন এই প্রশ্নের উত্তরে আপনি কত ওয়ার্ড লিখতে পারবেন। তাহলে বিষয় বস্তু যা দাঁড়ালো তাহল লেখার সংখ্যা নয়, লেখার মান আসল বিষয়।

যত বেশি কন্টেন্ট মাকের্টিং করতে পারবেন তত বেশি গুগলে Rank করার সম্ভব হবে।

বাংলা ব্লগ থেকে কত টাকা আয় করা যায়?

সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলা ব্লগ তৈরি করতে পারলে প্রতি মাসে ২০০ থেকে ৩০০ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। ( প্রথম অবস্থায় ) কিন্তু সেটা নির্ভর করবে আপনার ব্লগের কত গুলো কন্টেন্ট গুগলের ১ থেকে ১০ স্থানের মধ্যে আছে।

যত বেশি কন্টেন্ট গুগল Rank এ থাকবে তত বেশি আয় করতে পারবেন।

একটা উদাহরন দেওয়া যাক : ধরলাম আপনার ব্লগের ২০ টি কন্টেন্ট গুগলে ১ থেকে ১০ পজিশনের আছে। আপনি হয়তো যেনে থাকবেন যখন একটি কন্টেন্ট গুগলে Rank করে থাকে থাকে তখন শুধু একটি কিওয়ার্ড জন্য Rank করে না। বরং তার পাশাপাশি সকল কিওয়ার্ড Rank করে থাকে।

সুতরাং আপনার ২০ টি কন্টেন্ট Rank করা মানে প্রায় ১০০ কিওয়ার্ড Rank করবে ( শুধু বাংলা ব্লগের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি প্রযোজ্য ) কারন ইংরেজী কিওয়ার্ড এর ক্ষেত্রে এর থেকে অনেক বেশি কিওয়ার্ড Rank করে।

এখন প্রতিটি লেখার জন্য ১০ জন করে ভিজিটর পেলে আপনার মোট ভিজিটর হবে ২০০ জন। পেজ ভিও হবে মিনিমাম ৫০০ এবং Google Ads Click পাবেন ৫০ থেকে ৬০ টি। যা থেকে আপনার আয় হবে ৪ থেকে ৫ ডলার এবং প্রতিটি ১০০০ এড ইমপ্রেশনের জন্য পাবেন মিনিমাম ১ ডলার।

তাহলে আপনার মোট আয় হবে প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭ ডলার। ( বাংলা ব্লগ থেকে ) প্রতি মাসে ১৮০ ডলার থেকে ২১০ ডলার পর্যন্ত।

এবার আপনি চিন্তা করুন ১০০ টি কন্টেন্ট লেখা ভালো না ২০ বা ৩০ কন্টেন্ট লেখা ভালো। আপনি যাই করেন ভেবে চিন্তে করবেন। মনে রাখতে হবে ব্লগিং একটি ব্যবসা এবং প্রতিটি লেখা আপনার ব্যবসার পণ্য। আপনার পণ্যের কোয়ালিটি যত বেশি ভালো হবে তত বেশি বিক্রয় হবে।

শুধু গুগল এড থেকে ব্লগিং আয় করতে হবে তা কিন্তু নয়। গুগল এড ব্যতিত আরও অনেক উপায় আছে যা দিয়ে ব্লগ থেকে আয় করা যায়।

ব্লগ থেকে আয়ের বিভিন্ন উপায়

আশা করছি লেখাটি ভালো লেগেছে। যদি লেখাটি পড়ে এত টুকু উপকার আপনার হয়ে থাকে তাহলে এই লেখা আমার সার্থক। আপনি চাইলে লেখাটি আপনার সোস্যাল মিডিয়া একাউন্টে শেয়ার করতে পারেন। ধন্যবাদ

ইউটিউব থেকে কত টাকা আয় করা সম্ভব

বিস্তারিত আরও পড়ুর