ওয়েবসাইটের বা ব্লগের সুন্দর নাম নির্বাচন করার গাইডলাইন

Blog Name

প্রতিটি পেশার একটি উদ্দেশ্য থাকে। যদি প্রথম দিকে মানুষ শখের বসে ব্লগিং করতো কিন্তু যখন থেকে ব্লগিং থেকে আয়ের বিষয়টি জড়িত হয়েছে তখন থেকে ব্লগিং বিষয়টি সাথে পেশা কথাটি যুক্ত হয়েছে।

এখন ব্লগিং একটি পেশার নাম। যে এই পেশার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে এবং নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করছে। আপনি চাইলে ব্লগিং শুরু করতে পারেন।

ব্লগিং শুরু করার সময় প্রায় একটি প্রশ্নের সম্নূখ হতে হয়। সেটা ব্লগিং আমি কি বাংলায় শুরু করব? আবার অনেক মানুষ বলে বাংলার থেকে ইংরেজীতে ব্লগিং করা বেশি লাভের।

দেখুন প্রতিটি বিষয়ের কিছু লাভ এবং লোকসান আছে। আপনি যদি বুঝতে না পারেন কোনটি আপনার লাভের কেনটি লছের তাহলে আপনি ভালো কোন কিছুই করতে পারবেন না।

সুতরাং আপনি কোন ব্লগের নাম নির্বাচন করবেন তখন কিছু দিক লক্ষ রাখতে হবে। সঠিক ভাবে নাম নির্বাচন করার জন্য যে সকল বিষয় আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে।

ব্রান্ড প্রতিষ্টা

ব্রান্ডিং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি আপনি সঠিক ভাবে আপনার ব্লগের ব্রান্ডিং করতে পারেন তাহলে সেই ব্লগের জন্য ভিজিটর খোজার প্রয়োজন হবে না।

সাধারনত ব্রান্ডিং ব্লগের কিছু কমন ভিজিটর থাকে যারা নিয়মিত সেই ব্লগটি ভিজিট করে থাকে। যেমন প্রথম আলো একটি ব্রান্ড। এখন কেউ যদি প্রথম আলো পত্রিকা পড়তে চায় তাহলে সে গুগলে প্রথম আলো নিখে সার্চ করবে।

কারন প্রথম আলো একটি ব্রান্ড। সুতরাং আপনি আপনার ব্লগের ব্রান্ড তৈরি করার জন্য ব্লগের একটি সহজ সরল নাম নির্ধারন করতে হবে। যেন যে কোন মানুষ ব্লগের নামটি দুই থেকে তিন বার দেখলে মনে রাখতে পারে।
সফল ব্লগার হওয়া যায় কিভাবে?

অবশ্য নামের বিষয়টি নির্ভর করে আপনার ব্লগটি কোন টপিক নির্ভর। সাধারন টপিক নির্ভর ব্লগ গুলোর নাম সেই টপিক রিলেটেড রাখলে মানুষ সহজে মনে রাখতে পারে। একটা উদাহরন দেওয়া যাক, ধরুন আপনি আপনার ব্লগটি স্বাস্থ্য সেবা রিলেটেড সুতরাং আপনার ব্লগের নামটি স্বাস্থ্য সেবা রিলেটেড হলে খুবেই ভালো হয়।

ব্লগের নাম নির্ধারন করার ক্ষেত্রে যে সকল সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

ব্লগের নাম রাখার ক্ষেত্রে সক থেকে বড় সমস্যা হল পছন্দ অনুযায়ি ডোমেন নাম রেজিঃ করা। ধরুন আপনি আপনার ব্লগের নাম রাখতে চাচ্ছেন abcd.com কিন্তু দেখবেন অনেক আগে কোন একজন সেই ডোমেন নামটি রেজিঃ করে নিয়েছে। কোন ডোমেন নাম এক বার রেজিঃ হয়ে গেলে সেটি কোন ভাবেই দ্বিতীয় বার রেজিঃ করা সম্ভব নয়।

হ্যাঁ, কোন কারনে যদি সেই ব্যক্তি এক বছর পর ডোমেইন নামটি রিনিউ না করে তাহলে আপনি সেই ডোমেইন নাম পূর্ণরায় রেজিঃ করতে পারবেন।

ডোমেনই কি? ডোমেইন হল ব্লগের ঠিকানা। যেমন, আপনি যদি আমার এই ব্লগটি দ্বিতীয় বার ভিজিট করতে চান সেই ক্ষেত্রে আমার এই ব্লগের নাম টি আপনার মনে রাখতে হবে। আমার ব্লগের নাম mybdblog.com । আপনি mybdblog.com লিখে ব্রাউজারে সার্চ করলে আমার এই ব্লগটি পাবেন।

এখন কেউ যদি চায় আমার এই Domain নামটি রেজিঃ করতে তাহলে কিন্তু পারবে না। কারন mybdblog.com ডোমেনটি আমি রেজিঃ করে রেখেছি।
কিভাবে ব্লগিং শিখব এবং শুরু করব

হ্যাঁ, আপনি চাইলে অন্য কোন নামে ডোমেনটি রেজিঃ করতে পারেন যেমন, mybdblogdk.com। ডোমেন নাম রেজিঃ করার জন্য যে কোন ডোমেইন হোস্টিং বিক্রয় করা কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করলেই পাবেন।

সহজ সরল ব্লগের নাম

আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি ব্লগের নাম সহজ সরল হওয়াটা জরুরি। আপনার ব্লগের নাম সহজ সরল না হলে আপনি মনে রাখতে পারবেন না।

আপনি যদি ব্লগের নাম এমন রাখনে যেটা সহজে মনে থাকে না তাহলে সেই নাম ব্রান্ডিং করে কোন লাভ হবে না। সুতরাং এমন একটি নাম নির্বাচন করুন যা সহজে মনে থাকে।

যেমন আমার ব্লগটি নাম mybdblog.com । আমি মনে করি আমার ব্লগটির নাম টি মনে রাখা অনেকটাই সহজ। কিন্ত সহজ নামের জন্য ব্লগের নাম ৪ থেকে ৭ ডিজিটের মধ্যে হলে ভালো হয়।

ভিজিটর ভিত্তিক ব্লগের নাম

দেখুন আমর ব্লগের নামের মধ্যে বিডি ব্যবহার করা হয়েছে। এই বিডি ওয়ার্ড ‍দুইটি আমার আপনার কাছে যত টা সহজ অন্য কোন দেশের ভিজিটরের ক্ষেত্রে কিন্তু ততটা সহজ নয়।

আমার ডোমেনের সাথে বিডি ব্যবহার করার মূল উদ্দশ্য হল এটা একটি বাংলা ব্লগ। এবং আমার ব্লগের ৯৮% ভিজিটির হবে যারা বাংলা ভাষা জানে।

সুতরাং আমি নামটি নির্বাচন করছি আমার ব্লগের ভিজিটরকে লক্ষ করে। কিন্তু আমি যদি এই ব্লগটি ইংরেজি ভাষায় করতাম তাহলে আমার ব্লগের নাম অন্য কিছু হত।

ফ্রি ব্লগ সাইট বানিয়ে কিভাবে আয় করা যায়?

কারন একটি ইংরেজি ব্লগের ভিজিটর সাধারনত সমস্ত পৃথিবী থেকে পাওয়া যায়। যদিও ইংরেজি ব্লগের একটি নিদিষ্ট পরিধি আছে। সুতরাং আপনি যখন ব্লগ তৈরি করবেন তখন কোন ধরনের ভিজিটরকে লক্ষ করে ব্লগ তৈরি করছেন সেই বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।

শেষ কথা

ব্লগের নাম বাছাই করার আগে সব কিছু চিন্তা করে নিবেন। কারন এক বার একটি ডোমেন রেজিঃ হয়ে গেলে সেইটি পরির্বতন করা যায় না। আপনি এক বার একটি ডোমেইন বাছাই করে রেজিঃ করলে যদি দ্বিতীয় বার রেজিঃ করতে চান তাহলে নুতন ডোমেইন রেজিঃ করতে হবে।

প্রথম ডোমেইন টি রেজিঃ করতে যে খরচ হবে ভুল হলে দ্বিতীয় বার আপনাকে সেই একই অর্থ খরচ করতে হবে। প্রয়োজনে সময় নিয়ে ডোমেইন রেজিঃ করুন। আগে ভাবুন এবং ডোমেইন হোস্টিং কোম্পানির সার্চ বারে সার্চ করে দেখুন যে ডোমেইন টি ফ্রি আছে কি না।

যদি ডোমেইনটি ফ্রি না থাকে তাহলে অন্যটি ট্রাই করুন। এভাবে আপনি আপনার পছন্দের ডোমেইন নাম নির্বাচন করে ব্লগ বা ওয়েবসাইট ওপেন করুন।

যদি কোন ধরনের সহযোগিতা লাগে তাহলে আমাদের অবশ্যই জানাবেন। আমার সাধ্য মত আপনার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করব।

বিস্তারিত আরও পড়ুর