ব্লগিং আয়ঃ ব্লগিং করে আয়ের বিভিন্ন পথ

ব্লগিং, নিজের জানা-অজানা তথ্য গুলোকে অন্যের মাধ্যমে শেয়ার করার একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি এই পৃথিবীর সবাই এক এক জন ব্লগার। সব থেকে প্রিয় বিষয় হল, এই আপনার অভিজ্ঞতা অন্যের সাথে শেয়ার করার মাধ্যমে আয় করতে পারবেন।

ব্লগিং আয়

একই সাথে দুইটি কাজ, এক আপনি আপনার জনা তথ্য গুলো যেমন অন্যের সাথে শেয়ার করতে পারবেন, দুই এই তথ্য শেয়ারের মাধ্যেমে আয় করা।

আমি চেষ্টা করব ব্লগিং নিয়ে আয়ের ১০ হতে ১৫ টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করার

তার আগে একটু আলোচনা করে রাখি, একটি ব্লগ কখন আয় করার জন্য উপযোগি হয়ে উঠে। কারন বিষয় টা এমন নয়, আজ আপনি ব্লগিং শুরু করলেন এবং পরর্বতী দিন থেকে আয় শুরু করলেন।

একটি ব্লগ শুরু করা ১ বছর পর আপনাকে সেই ব্লগ থেকে আয় করার চিন্তা ভাবনা করতে হবে। তবে হ্যাঁ, আপনি যদি প্রফেশনাল ব্লগার হিসাবে কাজ শুরু করেন তবে ৫ হতে ৬ মাসের মধ্যে আয় করতে পারবেন।

ব্লগিং করে আয় প্রথম দিকে খুব ভালো হয় না। আপনি যদি বাংলাদেশের টাকায় হিসাব করেন তাহলে ৫০০০ হাজার টাকা হতে ৭০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন।

এবার শুরু করা যাক

১.  Google Adsense 

সাধারনত যারা ব্লগিং নিয়ে আয় করতে চায় তাদের প্রথম চিন্তা-ভাবনা থাকে Google Adsense  থেকে আয় করার।

নিদিষ্ট কিছু নীতি-নিয়ম ফলো করলেই খুব সহজেই Google Adsense  এ্যাড প্রকাশের জন্য, আপনার ব্লগ অনুমতি পেয়ে যাবে।

তবে ব্লগ এ গুগল এ্যাড প্রকাশের মাধ্যমে যে আয় হবে তা কিন্তু অনেক বেশি হবে না। কোন কোন ক্ষেত্রে ব্রান্ড ওয়েবসাইট গুলো প্রতি মাসে Google Adsense  থেকে ভালো টাকা আয় করে।

গুগল পার্টনার এবং গুগল এ্যাড শেয়ার হোল্ডার দুইটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়। গুগল পার্টনার ওয়েবসাইট গুলো প্রতি মাসে খুব ভালো টাকা আয় করে।

গুগল এ্যাড এর আর ও একটি বিষয় হল, আপনার ওয়েব সাইট এর টপিক। মানে আমি বুঝাতে চাচ্ছি আপনার লেখার বিষয় বস্তু। আপনার লেখার বিষয় বস্তুর উপর নির্ভর করে টাকা আয় হয়।

ফেসবুক থেকে আয়ের বিভিন্ন মাধ্যম এবং উপায়

২. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

বর্তমান সমায়ের জন্য একটি জনপ্রিয় মার্কেটিং ক্যাটাগরি অনলাইন জগত। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আপনি প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করা সম্ভব।

আমি একটু অ্যাফিলিয়েট বিষয় টা শেয়ার করি। আপনি একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ আছে যেখানে আপনি লাইফ স্টাইল নিয়ে লেখালেখি করেন।

কিন্তু আপনি লাইফ স্টাইল রিলেটেড পণ্য বিক্রয় করেন না, শুধু লেখা লেখি করেন। এর জন্য অনেক মানুষ আপনার ব্লগ এ আসে এবং আপনার দেওয়া পরামর্শ ভালোবাসে।

এই যে মানুষ গুলো আপনার ব্লগ এ আসে এবং আপনার লেখা পড়ে, এই বিষয় টাকে কাজে লাগিয়ে আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন।

কি ভাবে করবেন? ধরুন আপনি একটি ব্লগ লিখলেন বছরের একটি নিদিষ্ট সময় এর পোশাক নিয়ে এবং সেই ব্লগে এটাও উল্লেখ করলেন যে, কোথা থেকে আপনি এই পোশাক গুলো ক্রয় করতে পারবেন।

এবার আপনার ব্লগ রিডার আপনার দেওয়া তথ্য মতে সেই লিং এ গিয়ে ঐ পোশাকটি ক্রয় করলো। আপনার দেওয়া তথ্য অনুসারে আপনার রিডার যে পোশাক ক্রয় করল এর জন্য আপনি ঐ শপ থেকে কমিশন পাবেন। এটাই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মূল উদ্দেশ বা পরিকল্পনা।

অনলাইন আয় এর ২০টি উপায়

৩. লিড তৈরি

আমি জানি না, আপনি কত টা জানেন এই লিড তৈরি বিষয় টা নিয়ে। তবে আপনি না জেনে থাকলে আপনি আপনার সাথে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করতে চাই।

এবং আমার কাছে এই লিড তৈরি করা কাজটা অনেক বেশি ভালো লাগে। এই কাজটি আপনাকে দুই ভাবে সহযোগিতা করবে। এক. লিড তৈরি করে অন্যের কাজে সহযোগিতা করবে এবং আয় করা।

একটা উদাহরণ দিয়ে সম্পূর্ণ বিষয়টা আলোচনা করা যাক।

আমার একটি ল-ফার্ম আছে এবং কিছু ব্লগার আমাকে ক্লাইন্ট রেফার করে এবং এর বিনিময়ে আমি তাদের কিছু পে করি।

তবে এখানে কিছু কথা আছে, আমার ল-ফার্ম এ যে সব ক্লাইন্ট আসে তাদের সবার সাথে আমার ব্যবসা নাও হতে পারে। তার পরেও কিন্তু আমি ব্লগারদের পে করি। এর অবশ্য একটা কারন আছে , একজন ব্লগার আমাকে দশটা ক্লাইন্ট রেফার করল এবং আমি সেই ব্লগারকে 200 ডলার পে করলাম।

কিন্তু এই দশ জন ক্লাইন্ট এর মধ্যে ২ অথবা ৩ জন আমার সাথে কাজ করলে আমি 200 ডলার এর থেকে দশ গুন টাকা আয় করব।

ইউটিউব থেকে আয়ের উপায় এবং কৌশল

৪. ব্যানার এড প্রকাশের মাধ্যমে

আপনি একটি ব্লগ লিখছেন এবং আপনার ব্লগে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসে এবং আপনার ব্লগ পড়ে।

এই যে আপনার ব্লগে প্রতি দিন হাজার হাজার মানুষ আসে এবং আপনার ব্লগ পড়ে এর জন্য বিভিন্ন কম্পানি অথবা এজেন্সি আপনার ওয়েবসাইট এ ব্যানার এড দিতে চাইবে।

আমাদের এই মাইবিডিব্লগ এ প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসে এবং বিভিন্ন বিষয় লিয়ে পড়ে এর জন্য আমরা বিভিন্ন কম্পানি বা এজেন্সির কাছ থেকে এড এর জন্য অফার পাই।

এখন আমার যদি তাদের এড আমাদের এই ওয়েবসাইট এ প্রকাশ করি তাহলে সেই এজেন্সি বা কম্পানি আমাদের কিছু টাকা পে করবে।

এই পেমেন্ট এর অংকটা কিন্তু খুব কম নয়।

আর হ্যা, আমাদের এই ব্লগের লক্ষ এবং উদ্দেশ একটু ভিন্ন, তাই হয়তো কোন এড দেখতে পাচ্ছেন না।

৫. কন্টেন্ট স্পনসরে ব্লগিং আয়

কান্টেন্ট স্পনসর বিষয়টা কি, ভালো ভাবে বোঝার জন্য একটি উদাহরন দেওয়া যাক। আমার একটি নতুন ওয়েবসাইট আছে এবং আমি সেই ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে Website Design And Development Company এর কাজ করে থাকি।

এখন আমি একটি জনপ্রিয় ব্লগ সাইটের এডমিনের সাথে যোগাযোগ করলাম এবং উনাকে নিদিষ্ট টাকার বিনিময় আমার ওয়েবসাইটকে নিয়ে একটি কন্টেন্ট লিখতে বললাম।

আপনার ওয়েবসাইট যেহেতু হাজার হাজার পাঠক আছে সেহেতু আপানার ওয়েবসাইট এ আমার ওয়েবসাইটকে নিয়ে একটি কন্টেন্ট আমার জন্য খুবেই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে কন্টেন্ট স্পনসর তারাই করে যারা আপানার ওয়েবসাইট এর লেখা কন্টেন্ট এর সাথে তার ব্যবসার বিষয় বস্তুর মিল থাকে।

আর একটি ছোট উদাহরন দেওয়া যাক, ধরুন আমার একটি অনলাইন শপ আছে যেখানে মেয়েদের পোশাক বিক্রয় করা হয় ।

এই দিকে আপনার একটি অনলাইন ব্লগ সাইট আছে যেখানে মেয়েদের ফ্যাশান নিয়ে লেখা লেখি করেন এখন আপনি যদি আপনার ব্লগ সাইট এ আমার অনলাইন শপ নিয়ে একটি কন্টেন্ট লিখেন তাহলে অবশ্যই আমরা গ্রাহক বাড়বে এবং এর জন্য আমি আপনাকে কিছু টাকা পে করব।

কি ভাবে আর্টিকেল লিখে আয় করবেন

৬. ডিজিটাল প্রডাক্ট বিক্রয়

একটি ব্লগিং ওয়েবসাইট তৈরি করার পর প্রতিষ্টিত করতে পারলে আপনি ১০ বা ২০ ভাবে নয় হাজার হাজার উপায় আয় করতে পারবেন।

আপনার ওয়েবসাইটটি একটি ই-কমার্স ব্যবসা প্রতিষ্টান না হলেও আপনি বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রয় করতে পারবেন। তবে আপনি যে পণ্য গুলো বিক্রয় করবেন তা যেন ইউনিক পণ্য হয়।

বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল পন্য যেমন ঘড়ি, ফোন, ওয়াইফাই ডিভাইস ইত্যাদি। মূল কথা যে সব পণ্য খুব সহজে হাতের কাছে পাওয়া যায় না, সেই সকল পণ্য আপনি আপনার ব্লগের মাধ্যমে বিক্রয় করতে পারবেন।

ডিজিটাল প্রডাক্ট বিক্রয় করে ব্লগিং আয় করাটা আমার কাছে সহজ মনে হয়। আপনি ইমেইল করার মাধ্যমে আপনার মতামত জানাতে পারেন।

৭. ডিজিটাল বই বিক্রয় করে আয়

আপনি যেহেতু ভালো ব্লগ লিখতে পারেন সেহেতু অবশ্যই ভালো বই ও লিখতে পারেন। আপনার নিজের বা অন্য কারো বই আপনার ওয়েবাসাইট এর মাধ্যমে রেফার করার মাধ্যমে আয় করতে পারেন।

অথবা আপনি আপনার ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে নিজের লেখা বই বিক্রয় করে টাকা আয় করতে পারেন।

আপনাকে ডিজিটাল বই বিক্রয় করে কত টাকা আয় করতে পারবেন এর একটা হিসাব দেওয়া যাক।

ধরুন আপনি একটি বই লিখলেন “ডিজিটাল মার্কেটিং” নিয়ে এবং আপনার বই এর মূল ২০০ টাকা। এবার আপনি আপনার বইটি একটি ব্লগ এর মাধ্যমে প্রমোট করা শুরু করলে।

আপনার ব্লগের প্রতিদিন কয়েক হাজার নতুন ভিজিটর আসে যারা ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয় জানতে চায় এবার আপনি যদি তাদেরকে এই বইটি ক্রয় করার জন্য বলেন এবং প্রতিদিন সেই বই এর ২০ কপি বিক্রয় হয় তাহলে আপনার দৈনিক আয় হবে ৪০০০ টাকা এবং মাসে হবে ১২০০০০ টাকা।

শুধু মাত্র বই বিক্রয় করে আপনি কোটি কোটি টাকা আয় করতে পারবেন। তবে হ্যা কোটি টাকা আয় করার জন্য আপনার ব্লগ লেখার ধরনটা কি রকম হতে হবে তা একটু ভাববেন।

৮. ডোনেশন কন্টেন্ট বা পেইড কন্টেন্ট

ডোনেশন কন্টেন্ট বা পেইড কন্টেন্ট সব ক্ষেত্রে করা যায় না। যে সব ক্ষেত্রে আপনি ডোনেশন কন্টেন্ট বা পেইড কন্টেন্ট লিখতে পারেন তার মধ্যে হচ্ছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, টেকনোলজি ইত্যাদি সহ অনেক পেইড কন্টেন্ট তৈরি করতে পারেন।

যেমন আপনি যে লেখাটি এখন পড়ছেন তা সম্পূর্ণ ভাবে ফ্রি। কিন্তুু পেইড কন্টেন্ট এর ক্ষেত্রে আপনাকে কিছু ডলার বা টাকা পেইড করার পর পড়তে পারবেন।

পেইড কন্টেন্ট লিখে আয় করাটা যদিও এখন সম্ভব নয় তার পরেও এমন অনেক ওয়েবসাইট আছে যেখানে পেইড কন্টেন্ট আছে এবং মানুষ টাকা দিয়ে সেই সব কন্টেন্ট পড়ে।

৯. ব্যাকলিং বিক্রয়

ওয়েবসাইট এসইও এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পাট হল ওয়েবসাইট ব্যাকলিং। আপনি একটি ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে অন্য একটি ওয়েবসাইট কে ব্যাকলিং দিতে পারেন।

ব্লগিং আয় করার একটি ভালো মাধ্যম কিন্তু ব্যাকলিং বিক্রয়।

উদাহরন দেওয়া যাকঃ

আপনি একটি কন্টেন্ট লিখলেন ডিজিটাল এজেন্সি কে কভার করে। এবং সেই কন্টেন্ট এর মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইট এর লিং আপনার সেই লেখার মধ্যে দিয়ে দিলেন।

এর জন্য ঐ ওয়েবসাইট এর ওনার আপনাকে কিছু ডলার পেমেন্ট করবে। এক একটি ব্যাকলিং এর জন্য $50 ডলার পর্যন্ত পেইড করা হয়ে থাকে।

একটি ওয়েবসাইট এর শুরুতেই যে ব্যাকলিং এর জন্য অফার পাবেন তা কিন্তু নয়। ওয়েবসাইট এর র‌্যাং অনুযায়ী ব্যাকলিং অফার হয়ে থাকে।

১০. কোর্স বিক্রয়

যেমন আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার। আমি জানি কি ভাবে কন্টেন্ট লিখতে হয় এবং লেখার জন্য নিজেকে কি ভাবে প্রস্তুস করতে হয়।

এখন কন্টেন্ট লেখার উপর আমি একটি কোর্স শুরু করলাম। এবং কোর্সটি ব্লগ এড এর মাধ্যমে প্রমোট করা শুরু করলাম। এবং আপনার ব্লগ এর মাধ্যমে কোর্স বিক্রয় করা শুরু করলেন। ব্লগের ট্রাফিক এর উপর নির্ভর করে কোর্স বিক্রয় হয়।

অনলাইনে কোর্স তৈরি এবং বিক্রয়ের কৌশল

একটি ভালো মানের কোর্স প্রতি মাসে আপনাকে লক্ষ টাকা উপর আয়ের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে। আয় নির্ভর করে কোর্স এর মানের উপর।

আপনার কোর্স এর মান ভালো হলে, একটি কোর্স আপনার জীবন পরির্বতন করে দিতে পারে।

আপনি ব্যক্তিগত ভাবে কোন ডিজিটাল কোর্স তৈরি করতে চাইলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

ধন্যবাদ সময় দিয়ে পড়ার জন্য।

আপনাদের জন্য অনেক সময় নিয়ে এই লেখা গুলো লেখা হয়, তাই একটি বিশেষ অনুরোধ হল, লেখাটি শেয়ার করতে পারেন।

ব্লগ সাইট কিভাবে বানাব

ব্লগ লেখার নিয়ম এবং কৌশল

ব্লগ থেকে আয় করুন কাস্টমার রেফার করে

ব্লগিং বিষয়ে কিছু কমন প্রশ্নের উত্তর

ভিডিও ব্লগিং কি ভাবে শুরু করবেন

ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়

Free and Paid Blogging

বিস্তারিত আরও পড়ুর

error: Content is protected !!