Google Adsense ব্যাতিত ব্লগ থেকে আয় করার উপায়

Google Adsense ব্যাতিত ব্লগ থেকে আয় করার উপায়

প্রতিটি ব্লগারের উদ্দশ্য কিন্তু Google Adsense নয়। অনেক ব্লগ সাইট আছে যারা অন্য মাধ্যমে আয় করে থাকে।

এই লেখার মাধ্যমে আমি এমন কত গুলো বিষয় নিয়ে কথা বলব যা থেকে আপনি বুঝতে পারবেন কিভাবে গুগল অ্যাডসন্স ব্যাতিত ব্লগ থেকে আয় করা যায়।

এই লেখাটি পড়া শেষ করার মধ্য দিয়ে বুঝতে পারবেন কিভাবে ভিন্ন উপায়ে ব্লগ থেকে আয় করা যায়।

Google Adsense

ব্লগ থেকে আয় করার সহজ উপায়

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ইনকাম

বহুল প্রচালিত এবং জনপ্রিয় অনলাইন আয়ের মাধ্যম গুলোর মধ্যে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বর্তমানে শীর্ষে অবস্থান করছে।

এমন কিছু ব্লগ সাইট আছে যারা শুধু অ্যাফিলিয়েট ব্লগ তৈরি করে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ ডলার পর্যন্ত আয় করে থাকে।

প্রথমে আপনাকে একটি নিদিষ্ট বিষয় বাছাই করতে হবে। বিষয় বলতে যে বিষয় নিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চান।

ধরুন, আপনি বিউটি প্রডাক্ট নিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চাচ্ছেন। তাহলে আপনাকে বিউটি প্রডাক্ট নিয়ে একটি ব্লগ তৈরি করতে হবে। যার মধ্যে শুধু বিউটি প্রডাক্ট নিয়ে লেখালেখি করা হবে।

আপনার ওয়েবসাইটে যখন অনেক ভিজিটর আসবে তখন সেই ভিজিটর কে অন্য ই-কমার্স ওয়েবসাইটে কাস্টমার রেফার করার মাধ্যমে আয় করতে পারবেন।

অ্যাফিলিয়েট ওয়েবসাইটঃ

উপরের ওয়েবসাইট গুলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য জনপ্রিয়। আপনি চাইলে Google Adsense ব্যতিত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করতে পারবেন। যা অ্যাডসন্স থেকে কয়েকগুন বেশি।

তবে হ্যা অ্যাফিলিয়েট ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ইংরেজি ভাষার ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। বাংলা ভাষায় অ্যাফিলিয়েট ওয়েবসাইট তৈরি করে আয় করা সম্ভব কী!

কিভাবে অ্যাফিলিয়েট ব্লগ তৈরি করবেন এবং বিনিয়োগ কত

গেষ্ট পোষ্টিং করে আয়

আমার ওয়েবসাইটে প্রতিদিন কয়েক হাজার ভিজিটর আসে। আপনার একটি নতুন বিজনেজ ওয়েবসাইট আছে ডিজিটাল মার্কেটিং করার জন্য। সেই ক্ষেত্রে, যেহেতু নতুন ওয়েবসাইট সুতরাং ভিজিটর থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক।

এখন আপনি আমার সাথে ডিল করলেন যে, আপনি আমার ওয়েবসাইটে একটি লেখা প্রকাশ করবেন যেখানে আপনার ওয়েবসাইটের লিংক থাকবে।

এর ফলে আমার ওয়েবসাইটের ভিজিটর যখন আপনার প্রকাশ করা লেখাটি পড়বে তখন তারা আপনার ওয়েবসাইটে যাবে।

এর ফলে আপনার ওয়েবসাইটের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে। সাথে সাথে আপনার ওয়েবসাইটটি একটি ব্যাকলিংক পাবে যা এসইও ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে।

এখন প্রশ্ন হল আপনি আমার ওয়েবসাইটে যে লেখাটি প্রকাশ করবেন তা কি আমি ফ্রি করতে দিব। অবশ্যই ফ্রি করতে দিব না, এর জন্য আমাকে মিনিমাম ৩০ থেকে ৪০ ডলার পে করতে হবে।

এই চার্জ আরও বেশি হয় যদি ওয়েবসাইটের ভিজিটর সংখ্যা অনেক থাকে। কখনো কখনো একটি গেষ্ট পোষ্ট করার জন্য ১০০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত চার্জ করা হয়ে থাকে।

এখন আপনি আমাকে বলুন গুগল এডসন্স থেকে প্রতি মাসে আপনি কয়েক হাজার টাকা আয় করতে পারবেন কিন্তু গেষ্ট পোষ্ট করে প্রতি মাসে কয়েক লক্ষ টাকা আয় করা সম্ভব।

এবং গুগল ব্রাউজ করার সময় লক্ষ করেছেন কি! অনেক ওয়েবসাইট গুগল সার্জ রেজাল্টে সবার উপরে কিন্তু গুগল অ্যাডসন্সের কোন বিজ্ঞাপন নেই।

এর কারন হল গেষ্ট পোষ্টিং বা অ্যাফিলিয়েট মাকের্টিং। কারন যারা গেষ্ট পোষ্ট বা অ্যাফিলিয়েট করে আয় করে তারা Google Adsense ব্যবহার করে না।

ব্যাকলিংক বিক্রয় করে আয়

সাধারনত যারা ব্লগিং পেশার সাথে জড়িত কম বেশি সবাই এসইও বিষয়টা জানে। এবং এর সাথে আরও একটি বিষয় জানার কথা তাহল ব্যাকলিংক।

গুগল সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পৃষ্টায় নিজের ওয়েবসাইটকে নিয়ে আসার জন্য ব্যাকলিংকের গুরত্ব বলে শেষ করা যাবে না।

এবং প্রতিটি বিজনেস ওয়েবসাইট যখন নতুন তৈরি করা হয় তখন তাদের কোন ব্যাকলিংক থাকে না। এই ওয়েবসাইট গুলো ব্যাকলিংক ক্রয় করে থাকে।

ব্যাকলিংক কি? আমার এই ওয়েবসাইটের লিংকটি অন্য কোন ওয়েবসাইটের সাথে সংযুক্ত থাকলে তাকে আমরা ব্যাকলিংক বলে থাকি। বিষয়টা আর একটি ক্লিয়ার করলে হবে যে, আপনার ওয়েবসাইটের লিংক অন্য ওয়েবসাইটে সংযুক্ত থাকলে সেটা হবে একটি ব্যাকলিংক আপনার ওয়েবসাইটের জন্য

এখন আসল কথায় আসা যাক, আমার ওয়েবসাইটি গুগল সার্জ রেজাল্টে প্রথম পেজে আসে। সুতরাং আমার ওয়েবসাইটের গুরুত্ব গুগলের কাছে আছে।

যেহেতু আপনার নতুন ওয়েবসাইট আপনি চাচ্ছেন আমি যেন আপনার ওয়েবসাইটের লিংক টি আমার ওয়েবসাইটে যোগ করি। সেক্ষেত্রে আপনি আমাকে কিছু নগদ অর্থ দিবেন।

সাধারনত একটি ব্যাকলিংক করার জন্য ৫ থেকে ১০ ডলার পর্যন্ত চার্জ করা হয়ে থাকে। এবার আপনি ভাবুন, মাসে ১০০ থেকে ২০০ লিংক যোগ করলে কত টাকা আয় করা সম্ভব।

এবং দিন যত যাবে আপনার ওয়েবসাইট থেকে ব্যাকলিংক চার্জ তত বেশি বৃদ্ধি পাবে। ওয়েবসাইটের বয়স বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে ইনকাম বাড়তে থাকে।

ব্যাকলিংক তৈরি করে আয় করাটা গুগল এডের থেকে অনেক বেশি।

ওয়েবসাইট ভিজিটর কনভার্ট

ওয়েবসাইট ভিজিটর কনভার্ট অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং দুইটি ভিন্ন বিষয়। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কমিশন অর্থ তখন পাওয়া যখন কেউ সেই পণ্য বা সেবা গ্রহণ করে।

কিন্তু ওয়েবসাইট ভিজিটর রেফার করে আয় করতে হলে কোন পণ্য বা সেবা ক্রয় করতে হয়।

শুধু আপনাকে তাদের ওয়েবসাইটে ভিজিটর পাঠাতে হবে। যত বেশি ভিজিটর পাঠাতে পারবেন তত বেশি আয় করতে পারবেন।

এর জন্য আপনার ব্লগ সাইটে একটি ব্যানার এড করতে হবে। যা দেখে মানুষ সেই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করবে। অবশ্য মানুষ ব্যানারে ক্লিক করে তাদের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে আয় পাবেন।

সাধারনত ১০০০ ভিজিটর রেফার করার জন্য ৫ থেকে ১০ ডলার পর্যন্ত প্রদাণ করা হয়ে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর থেকে বেশি আয় করা সম্ভব।

ওয়েবসাইট গুলো নিজের ব্রান্ডিং করার জন্য এই অর্থ খরচ করে থাকে। একটা উদাহরন দেওয়া যাক, আমার ওয়েবসাইটে ডোমেইন এবং হোস্টিং নিয়ে একটি লেখা প্রকাশ করলাম।

গুগল সার্জ করে ভিজিটর আমার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করল। এবং আমি একটি কোম্পানির ব্যানার লেখার মধ্যে এড করে দিলাম। এখন সেই ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করল। এতে করে মানুষ আপনার ব্যবসা নিয়ে জানতে পারবে।

এবং সেই ভিজিটর পরর্বতীতে ডোমেইন এবং হোস্টিং ক্রয় করতে চাইলে। সেই কোম্পানি থেকে সার্ভিস নেওয়ার কথা চিন্তা করতে পারে।

আপনি চাইলে গুগল অ্যাডসন্সের সাথে সাথে এই কাজটি করতে পারবেন। যা থেকে অতিরিক্ত কিছু অর্থ আয় করতে পারবেন।

লোকাল স্পন্সার

লোকাল ব্রান্ডের স্পন্সার পাওয়ার জন্য ওয়েবসাইটে অনেক বেশি ভিজিটর দরকার। যত বেশি ভিজিটর হবে তত বেশি লোকাল স্পন্সার পাওয়ার সম্ভব না বেশি হয়।

আপনার ব্লগ সাইট যখন একটি পর্যায়ে পৌচ্ছে যাবে তখন লোকাল স্পন্সার পাওয়ার জন্য লোকাল কোম্পানি গুলোর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিবিলিটি ভালো হলে আপনি অবশ্যই লোকাল স্পন্সার পাবেন। সাধারনত লোকাল স্পন্সার ওয়েবসাইটের হেডার, ফুটার, সাইডার, ইত্যাদি জায়গা গুলো বেঁচে নিবে বিজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য।

লোকাল স্পন্সার অনেক ভাবে মূল্য নির্ধারন করে থাকে। মূল্য হতে পারে ব্যানার সাইজ অনুযায়ি, সময় ভিত্তিক, মাসিক ভিত্তিক, করপোরের্ট স্পন্সার ইত্যাদি।

এমন হতে পারে আপনার সাথে মাসিক ভিত্তিক চুক্তি করতে পারে। এক মাসের জন্য ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত চার্জ করতে পারবেন প্রথম অবস্থায়।

ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে মাসিক চার্জ বৃদ্ধি পায়। তবে লোকাল স্পন্সার পাওয়ার জন্য ভিজিটর সংখ্যা বড় একটি বিষয়।

ব্লগ থেকে সার্ভিস রেফার করে আয় করার কৌশল

৫০০০ হাজার টাকায় সম্পূর্ণ ব্লগ সাইট তৈরি করুন

ব্লগিং নিয়ে কোন কিছু জানার থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

বিস্তারিত আরও পড়ুর