ফ্রিল্যান্সিং সাইটে কি ধরনের কাজ পাওয়া যায় – ব্যাখ্যা

ফ্রিল্যান্সিং সাইটে কি ধরনের কাজ পাওয়া যায়

ফ্রিল্যান্সিং সাইটে কত ধরনের কাজ পাওয়া যায় এর সঠিক তথ্য কেউ দিতে পারবে না। কারন প্রতিদিন ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলোতে নতুন নতুন কাজ যুক্ত হচ্ছে। তার পরেও আমি কিছু ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলো পাওয়া যায় এমন কাজ নিয়ে আলোচনা করব।

আমি সেই সকল কাজ নিয়ে আলোচনা করব যা আপনি জানেন অথবা করতে পারেন। আশা করছি আপনি এই লেখাটি শেষ করার সাথে সাথে ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলোতে কাজ শুরু করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং সাইটের কাজ কি?

ফ্রিল্যান্সিং সাইটের কাজ হচ্ছে একজন বায়ার এবং ওয়ার্কারের সাথে সংযোগ তৈরি করা। ধরুন, আমি একজন বায়ার আমি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে চাচ্ছি। এখন আপনি একজন ওয়ার্কার, আপনি ওয়েবসাইট ডিজাইনের কাজ জানেন।

আপনি আমার সাথে কন্ট্রাক করার অথবা আমি আপনার সাথে কন্ট্রাক করার সুযোগ পাবো ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট গুলো মাধ্যমে।

এখানে ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলো লাভ হল মাধ্যম হয়ে কিছু টাকা কমিশন নেওয়া। যেমন আমি আপনাকে ১০০ ডলারের ওয়েবসাইট ডিজাইনের কাজ দিলাম। আপনি কাজ টা সম্পূর্ণ করলেন এবং আমি আপনাকে ১০০ পে করলাম।

কিন্তু আপনি একজন ওয়ার্কার হয়ে ১০০ ডলার পেমেন্ট পাবেন না। সর্ব শেষ অর্থ উত্তোলন করার ক্ষেত্রে একজন ওয়ার্কার হয়ে ৮৫ থেকে ৯০ ডলার পর্যন্ত পেমেন্ট পাবেন।

ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট গুলোতে যে সকল কাজ পাওয়া যায়।

১. ডাটা এন্ট্রি

বর্তমান সময়ের খুবেই জনপ্রিয় একটি কাজ ডাটা এন্ট্রি। এবং বেশির ভাগ ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট গুলোতে আপনি ডাটা এন্ট্রি কাজ দেখতে পাবেন। অবশ্য ডাটা এন্ট্রি কাজের বিভিন্ন ধরনের টাইপ আছে। সকল ডাটা এন্ট্রি কাজ একই নয়।

আপনি কোন ধরনের কাজ করতে পারবেন তার উপর নির্ভর করে ডাটা এন্ট্রি কাজের টাইপ।

একটা উদাহরন দেওয়া যাকঃ

আমি একজন বায়ার, আমি আপনাকে একটি কাজ দিলাম। কাজটা হল সকল ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলোর সিইও এর মোবাইল নাম্বার, ইমেইল সংগ্রহ করতে হবে। অনলিমিটেড নয়, একটি নিদিষ্ট সংখ্যা বলে দিলাম।

এই কাজটি যে কেউ করতে পারবে। শুধু আপনাকে জানতে হবে কিভাবে অনলাইন থেকে অথবা ইন্টারনেট থেকে কারো মোবাইল বা ইমেইল অ্যাড্রেস কলেক্ট করতে হয়।

আপনি ইউটিউবে অনেক ভিডিও পাবেন শেখার জন্য যে, কিভাবে অনলাইন থেকে ইমেইল অ্যাড্রেস সংগ্রহ করতে হয়।

২. আর্ট এন্ড Crafts

আপনি খুব সুন্দর প্রাকৃতির ছবি আঁকতে পারেন। এই ছবি আঁকতে পারার মেধা টা কাজে লাগিয়ে ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলো থেকে আয় করতে পারবেন।

অনেক সৌখিন ব্যক্তি আছে যারা নতুন নতুন ডিজাইন তাদের বেড রুমে, ডাইনিং রুমে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য রাখতে চায়।

সেই ক্ষেত্রে এই ব্যক্তি গুলো চায় তার বাসায় যে ডিজাইনটা থাকবে তা যেন সম্পূর্ণ ভাবে ইউনিক হয়। এই জন্য তারা ফ্রিল্যান্সার হায়ার করে থাকে, যাতে করে সম্পূর্ণ ইউনিক ছবি পাওয়া যায়।

আশার কথা হল দিন দিন এই সেক্টরে চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনি প্রতিটি ছবির জন্য বাংলাদেশি টাকায় ২০০০ থেকে ৫০০০ হাজার টাকা পর্যন্তু ডিমান্ড করতে পারবেন।

সুতরাং আপনি একজন ভালো আর্ট এন্ড ক্রাফ্টের মানুষ হলে, ফ্রিল্যান্সিং মাকের্টি প্লেসে আপনার জন্য আছে অপার সম্ভবনা।

৩. ফানি জন্মদিনের ভিডিও তৈরি

অনেক মানুষ আছে যারা নিজের প্রিয় মানুষের জন্য স্পেশাল কিছু করতে চায়। আপনি খুব ফানি ভিডিও তৈরি করতে পারেন। এখন আমি একজন বায়ার হয়ে একটি ফানি ভিডিও চাচ্ছি, যা আমার আপন জনকে হ্যাপি করতে সহযোগিতা করবে।

যেহেতু আপনি খুব ভালো ফানি ভিডিও তৈরি করতে পারেন। সুতরাং আমি আপনার সাথে যোগাযোগ করে একটি ফানি ভিডিও তৈরি করে নিলাম আপনার কাছে থেকে।

সাধারনত প্রতি ফানি ভিডিও তৈরি করার জন্য ১০ থেকে ২০ ডলার পর্যন্ত চার্জ করা হয়।

আপনার একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন থাকলে এই কাজটি করতে পারবেন। এবং আমি ফাইবার মাকের্ট প্লেসে দেখেছি অনেক বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সার ফানি ভিডিও তৈরির কাজটি করে থাকে। এবং তার সেই মাকের্ট প্লেস থেকে ভালো অর্থ আয় করে।

৪. ব্যক্তিগত স্টাইলিষ্ট

আপনাদের মধ্যে অনেক ছেলে এবং মেয়ে আছে যাদের ড্রেসিং অভিজ্ঞতা অনেক ভালো। যদি আপনার এমন অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ফ্রিল্যান্সিং মাকের্ট প্লেসে কাজ করতে পারবেন।

সাধারনত বায়ার নিদিষ্ট কোন অনুষ্টানের জন্য ব্যক্তিগত স্টাইলিষ্ট হায়ার করে থাকে। আপনি সঠিক সাজেশন দিয়ে এক বার জায়গা করে নিতে পারলে কাজের কোন অভাব হবে না।

ওপেন ফ্রিল্যান্সিং মাকের্ট প্লেস গুলো এই সকল কাজ পাওয়া যায়।

অথবা আপনি নিজে একটি পোর্টফলিও করতে পারেন। কারো ব্যক্তিগত স্টাইলিষ্ট দরকার হলে যেন আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে।

৫. ব্যক্তিগত সহকারি

বর্তমানে অনলাইন ভিত্তিক ব্যক্তিগত সহকারির চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন কাজের জন্য ব্যক্তিগত সহকারি নিয়োগ প্রদান করা হয়ে থাকে।

একটা উদাহরন দেওয়া যাকঃ

ধরুন, আমার একজন ব্যক্তিগত সহকারি লাগবে যে আমার ব্যক্তিগত ইমেইলের রিপ্লে দিতে পারবে।

অথবা এমন হতে পারে আমার ই-কমার্স ওয়েবসাইটের পণ্যের অর্ডারের রিপ্লে দেওয়ার জন্য আপনাকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

সাধারনত ব্যক্তিগত সহকারি ঘন্টা ভিত্তিক চার্জ করে থাকে। কখনো কখনো নিদিষ্ট সময়ের জন্য ব্যক্তিগত সহকারি নিয়োগ দেওয়া হয়।

আমি ব্যক্তিগত সহকারি হয়ে কাজ করতে চাইলে আপনাকে অনলাইন ভিত্তিক অনেক বিষয় ধারনা অথবা কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজ

৬. রান্নার রেসিপি

আপনি ভালো রান্না করতে পারেন। বিভিন্ন দেশের রান্না বিষয়ের আপনার ধরনা আছে। আপনার রেসিপি অন্য কারো সাথে শেয়ার করে ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে পারবেন।

উদাহরনঃ

আমার একটি রেসিপির ওয়েবসাইট আছে যার জন্য কিছু রান্না রেসিপি লাগবে। আপনি আমাকে নিদিষ্ট কিছু রেসিপি দিলে আমি কিছু পেমেন্ট করব।

৭. মার্কেট রিসার্স

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেসে বিশাল চাহিদা আছে মার্কেট রিসার্স কাজের। মার্কেট রিসার্স কাজ করার জন্য অনেক বেশি জানার দরকার হয় না। আপনি ভালো ভাবে ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারলে মার্কেট রিসার্স করার কাজ পাবেন।

আপনি নতুন হয়ে থাকলে ইউটিউব থেকে ভিডিও দেখে শিখে নিতে পারেন কিভাবে নিদিষ্ট টপিকের উপর মার্কেট রিসার্স করতে হয়।

অবশ্য মার্কেট রিসার্স কাজ করার জন্য কিছু পেইড টুলের দরকার হয়। কিন্তু এটা কোন বিষয় নয়। কারন আপনি যদি কাজ পান তবে খরচ করতে কোন সমস্যা হবে না।

৮. লোকাল Advisors

ধরুন, কেউ আমাদের বাংলাদেশ ঘুরতে আসতে চাইছে কিন্তু সে জানে না আমাদের দেশের আইন-কানুন, নিয়ম-নীতি। সুতরাং আপনি একজন লোকাল এডভাইজার হয়ে অনলাইন থেকে অর্থ আয় করতে পারেন।

লোকাল এডভাইজার হয়ে খুব ভালো মানের অর্থ আয় করা সম্ভব। আপনি প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ টি এডভাইজার কাজ করতে পারলে মিনিমাম ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন।

কিন্তু আপনাকে জানতে হবে একজন লোকাল এডভাইজারের কি কি বিষয় জানা থাকা দরকার। এ ক্ষেত্রে আপনি বিভিন্ন ধরনের ব্লগ পড়তে পারেন। কিভাবে লোকাল এডভাইজার হিসাবে কাজ করতে হয় তার উপর।

আপনি প্রফেশনাল ভাবে কাজ করতে পারলে একটা সময় নিজের ভ্রমন এডভাইসর ফার্ম খুলতে পারবেন।

ভবিষ্যৎ আমাদের দেশে পর্যটক সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এর উপর কোন সন্ধেহ নেই। একটি দেশের উন্নায়নের সাথে সাথে পর্যটক বন্ধব হয়ে উঠে।

৯. ডোমেইন রিসার্স ওয়ার্ক

অনলাইনে ব্যবসা করার উদ্দশ্য নিয়ে যে সকল কোম্পানি ডোমেইন রেজিঃ করতে চায়, তারা সবাই চায় তাদের ডোমেইন নামটি ইউনিক এবং ব্রান্ড টাইপের হয়।

ডোমেইন নাম রিসার্স করা খুবেই সহজ কাজ। উদাহরন দেওয়া যাক, ধরুন আমি ডিজিটাল মার্কেটিং করার জন্য একটি ডোমেইন নাম দরকার।

সেই ক্ষেত্রে আমি একজন বায়ার হিসাবে আপনাকে ডোমেইন রিসার্স করার কাজ দিলাম। এবং আমার উদ্দশ্যকে মাথায় রেখে, এখন রেজিঃ হয়নি এমন ডোমেইন নাম সাজেস্ট করলেন।

২০টি ডোমেইন নাম সাজেস্ট করলে যার বিনিময় আমি আপনাকে কিছু অর্থ প্রদান করব। আপনি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেসে প্রচুর ডোমেইন রিসার্স করার কাজ পাবেন।

১০. সোশ্যাল মিডিয়া পোষ্ট রাইটার

বর্তমানে Social Media influencer দিয়ে মার্কেটিং করার ট্রেন্ড শুরু হয়েছে। বিশেষ করে লোকাল পণ্য মার্কেটিং করার জন্য কোম্পানি গুলো influencer হায়ার করে থাকে।

কারন একজন সোশ্যাল মিডিয়া influencer দিয়ে অনেক কম খরচে উন্নত মানের মার্কেটিং করা যায় এবং ভালো ফিড ব্যাক পাওয়া যায়।

এই কারনে সোশ্যাল মিডিয়া influencer প্রতিটি পোষ্টকে বিশেষ খেয়াল রাখে। পোষ্ট ক্যাপশন, পোষ্ট বর্ননা, ইত্যাদি বিষয় গুলোর জন্য বিশেষ নজর দিতে হয়।

পোষ্ট রাইটারের কাজ হল influencer প্রফাইলে বিভিন্ন ধরনের পোষ্টের বর্ননা এবং ক্যাপশন লেখা।

আপনি খুব সুন্দর সোশ্যাল মিডিয়া পোষ্ট লিখতে পারলে, এই ফ্রিল্যান্সিং কাজটি আপনি করতে পারেন।

জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটি প্লেস

কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেসে কাজ শুরু করবেন

আবেগপ্রবণ হয়ে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেসে কাজ করার জন্য আসা যাবে না। ধরলাম আপনি আজ একটি নতুন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেসের নাম শুনলেন এবং সাথে সাথে গিয়ে একাউন্ট তৈরি করলেন।

এই কাজটি করা যাবে না, একাউন্ট তৈরি করার আগে সেই মার্কেট বিষয় বিস্তারিত জানার চেষ্টা করুন তারপর একাউন্ট তৈরি করুন।

প্রয়োজনীয় যত ধরনের ডকুমেন্ট লাগবে প্রফাইলের সাথে যুক্ত করুন। প্রফাইলে কোন কিছু বাদ রাখা যাবে না। অসম্পূর্ণ প্রফাইন দেখতে যেমন খারাপ লাগে তেমনি ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে কাজ না পাওয়ার একটি বড় কারন।

আমি Fiverr কাজ শুরু করার ১৫ দিনের মধ্যে কাজ পেয়েছিল। আর আমার কাজ পাওয়ার বড় কারন ছিল কম্পিলিট প্রফাইল।

সুতরাং ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেসে কাজ শুরু করার আগে নিজেকে প্রস্তুত করে নিতে হবে। হঠাৎ করে কাজ শুরু করলে সফল হতে পারবেন না।

কোন ধরনের সহযোগিতা লাগলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

বিস্তারিত আরও পড়ুর