সম্ভব কী! এড এবং ভিডিও দেখে টাকা আয় করে বিকাশে পেমেন্ট

আপনি উদ্দশ্য কি এড এবং ভিডিও দেখে টাকা আয় করে বিকাশে পেমেন্ট নেওয়া। তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য। এই লেখার মধ্যে আপনি জানতে পারবেন আপনার কি করা উচিত, কি করা উচিত নয়।

আমি যে কথা গুলো বলব তা আপনার কাছে উপদেশ বা লেকচার মনে হতে পারে। কিন্তু বিশ্বাস করুন আমি যা বলব তা শুধু বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমি যথেষ্ট যুক্তি দিয়ে কথা গুলো বলব।

আমরা চাওয়া, আপনি যেন ভুল পথে পরিচালিত না হন। আপনি যে আপনার কষ্টের টাকা নষ্ট না করেন।

আমি সজীব রায়। বিগত দশ বছর ধরে ব্লগিং করে আসতেছি। একই সাথে আমি একজন প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সার।

বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং কাজ

প্রথম প্রশ্নঃ বিজ্ঞাপন কেন দেওয়া হয়

ধরুন, আমার একটি এজেন্সি আছে এবং আমি আমার এজেন্সির বিজ্ঞাপন দিতে চাই। এবং বিজ্ঞাপন দিতে চাই ডিজিটাল মিডিয়া। এখন প্রশ্ন হল আমি ডিজিটাল মিডিয়া বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে কোন মাধ্যমে প্রকাশ করব।

যা হোক আমার প্রথম পছন্দ হতে পারে ফেসবুক, ইউটিউব, ইন্সাটাগ্রাম, টুইটার, গুগল ইত্যাদি জনপ্রিয় ডিজিটাল মাধ্যমে।

কারন এই সকল মাধ্যমের ভিজিটর সংখ্যা বিলিয়ন বিলিয়ন। সুতরাং আমি কোন পণ্যের প্রচার করলে তা বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষ দেখবে।

how to make money seeing video ads and get payment with bkash

এবং আমি চাই আমার বিজ্ঞাপন সেই সকল মানুষ যেন দেখতে পায় যারা আমার পণ্য আগে থেকেই পছন্দ করে।

বিষয়টা সহজ করা যাক। আপনি AI প্রযুক্তির কথা জানেন কি? AI (Artificial intelligence) এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল প্রতিষ্ঠানের রোবট গুলো বুঝতে পারে আপনি কি পছন্দ করেন এবং কি পছন্দ করেন না।

একটা উদাহরন দেওয়া যাক, আপনি মোবাইলে ফোনে মাধ্যমে গুগলে সার্জ দিলেন কি ভাবে বিজ্ঞাপন দেখে আয় করা যায়। এবং কিছু ওয়েবসাইটের লিষ্ট আপনার সামনে আসবে। এবার আপনি সেই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে দেখবেন, ওয়েবসাইটে যে এড গুলো প্রকাশ হচ্ছে তা আপনি অনেক আগে গুগলে সার্জ করেছিলেন। এটাই Artificial intelligence কাজ।

মোবাইল দিয়ে টাকা আয় করার কিছু বাস্তব আইডিয়া

প্রশ্নের উপর ভিত্তি করে উদাহরন

WordPress Website কিভাবে তৈরি করতে হয় তার উপর একটি কোর্স তৈরি করলাম এবং ফেসবুকে প্রমোট করা শুরু করলাম। ফেসবুকে একটি বিষয় খেয়াল করবেন, আপনি যে সকল বিষয় লাইক, কমেন্ট করেন সেই সকল বিষয়ের এড ফেসবুক আপনাকে প্রদর্শন করে। সুতরাং আমার প্রকাশ করা বিজ্ঞাপনটি শুধু সেই সকল মানুষ দেখতে পারে যারা ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি করতে আগ্রহী অথবা ওয়ার্ডপ্রেস বিষয় জানতে চায়।

এবার আপনাকে একটা প্রশ্ন করি? আমি আমার বিজ্ঞাপন কেন আপনাকে দেখাবে আপনি কি আমার সাভির্সটি ক্রয় করবেন। আপনার উত্তর অবশ্যই, না।

এবার আপনি বলতে পারেন ভাই আমরা তেল, সাবান, গেম ইত্যাদির এড দেখি। ভাই আপনি যে এডেই দেখেন না কেন তাতে সেই কোম্পানির কোন লাভ নেই।

আর একটি বিষয় আমি টাকা দিয়ে সেই ডিজিটাল মাধ্যমে আমার পণ্যের প্রচারনা করব যেখানে হাজার হাজার গ্রাহক আছে।

আপনি যে মাধ্যমে আমার এড দেখবেন সেখানে আমার পণ্যের প্রচার করে কোন লাভ নেই।

অনলাইন থেকে আয় করার বিশ্বাসযোগ্য উপায়

ডিজিটাল মাকের্টিং বাজেট

আমি প্রতিদিন ৫ ডলার ডিজিটাল মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়ার কাজে ব্যবহার করলে। কয়েক লক্ষ মানুষের কাছে আমি আমার Ads পৌঁচ্ছাতে পারব। যা অন্য কোন মাধ্যম ব্যবহার করে করা সম্ভব নয়।

আমি কেন এমন একটি কোম্পনি কে আমার বিজ্ঞাপন প্রচার করার জন্য দেব যার কোন জনপ্রিয়তা নেই। যার শুধু কয়েক হাজার রেজিঃ করা গ্রাহক আছে।

Digital Marketing Cost

তবে এটা আমি কখনোই বলব না যে এড দেখে টাকা আয় করা একবারের সম্ভব নয়। হ্যাঁ সম্ভব, তবে সেই আয় প্রতিমাসে ১০০ টাকা বেশি নয়।

আমি একটি সাবানের বিজ্ঞাপন দিলাম নাম মাত্র একটি কোম্পানি। আমার বিজ্ঞাপনের বাজেট ১০,০০০ টাকা। এবার সেই কোম্পানি তাদের গ্রাহকে সেই এড দেখিয়ে কিছু টাকা খরচ করল এবং বাকি টাকা নিজের কাছে রাখল।

এটা হতে পারে তাবে তা কখনােই অনেক বেশি নয়। কিন্তু এখানে বিজ্ঞাপন দাতার সম্পূর্ণ টাকাই নষ্ট। কারন, আপনি যখন সেই কোম্পানির বিজ্ঞাপন দেখবেন তখন আপনার উদ্দশ্য কি থাকবে টাকা আয় করা।

সুতরাং আপনি চাইবেন যত তাড়াতাড়ি বিজ্ঞাপন দেখে শেষ করা যায় তত ভালো।

ফেসবুক থেকে আয় করার উপায়

ইউটুবের এড দেখে আপনি টাকা পান কি?

ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে তিনটি সিস্টেম কাজ করে। প্রথম উদ্যোক্তা, যারা কন্টেন্ট তৈরি করে, দ্বিতীয় কন্টেন্ট তৈরি করার প্লাটফর্ম, গ্রাহক বা ভিউয়ার, ভিজিটর।

যখন কোন কোম্পানি বিজ্ঞাপন তার প্লাটফর্ম প্রকাশ করে তার ৩০% সেই কোম্পানি পায়। বাকি ৭০% পায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। তার মানে যার ফেসবুক, ইউটিউব, গুগল থেকে আয় করে তাদের কথা বলছি।

একজন ক্রিয়েটর দিন, রাত পরিশ্রম করে তার একটি জায়গা তৈরি করে ডিজিটাল মাধ্যমে তারপর সেখান থেকে আয় করতে পারে।

কোম্পানি গুলো সেই ডিজিটাল মাধ্যম Ads দেওয়ার জন্য বাছাই করে যেখানে হাজার হাজার ভিজিটর আছে। যেখানে কয়েক হাজার ভিজিটার বা গ্রাহক আছে সেই মাধ্যমে কে কখনো ব্যবহার করবে না।

একজন ইউটুবার কখন আয় করতে পারে জানেন যখন তার চ্যানেলে ৪ হাজার ঘন্টা ভিউ এবং ১ হাজার সাবস্ক্রাইবার হয়। এবং একটি ইউটুবার এক লক্ষ ভিডিও ভিউ হওয়ার জন্য অনুমানিক ১০ ডলার পায়।

আপনি অথবা আমি সেই ভিডিও গুলো দেখি যা আমাদের ভালো লাগে। ও আর একটি বিষয় খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন ইউটিউবের সব ভিডিও তে সমান এড দেখায় না। এর কারন হল কন্টেন্ট কোয়ালিটি। কন্টেন্ট কোয়ালিটি ভালো না হলে হাজার হাজার ভিউ দিয়ে আপনি আয় করতে পারবেন না।

কিভাবে ইউটুবিং শুরু করবেন

এবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা

আমি যতটা সম্ভব বোঝাতে চেয়েছি কেন ভিডিও অথবা এড দেখে আয় করা সম্ভব নয়। এবার আপনি সিদ্ধান্ত নিবেন আপনি কি করবেন!

thinking about your online work

আর একটি বিষয়, যদি ২ লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করে প্রতিমাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব হত তাহলে মানুষ পুজিবাজারে ব্যবসা বাদ দিয়ে দিত। অথবা মানুষ তার ব্যাংকে জমানো টাকা উত্তলন করে নিত।

মনে রাখবেন, আয় করার জন্য যখন শর্টকাট রাস্তা পাবেন তখন সেই রাস্তা শর্টকাট ভাবে শেষ হয়ে যাবে।

অনলাইন থেকে আয় করার তিনটি উপায়

অনলাইন ব্যবসা

ফ্রিল্যান্সিং

মাকের্টিং

এর বাইরে কোন উপায় বা পথ তৈরি হলে তার মধ্যে ঝামলা থাকাটাই স্বাভাবিক।

সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন এই আশা নিয়ে শেষ করছি।

ধন্যবাদ, আপনাকে।

ডান থেকে বামে টানুন আরও পোষ্ট দেখার জন্য