কিভাবে ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করবেন তার সম্পূর্ণ গাইডলাইন

ই-কমার্স ব্যবসা

সময়ের সাথে সাথে ব্যবসার গতি প্রকৃতির পরির্বতন হচ্ছে। এবং বর্তমান সময় উপযোগি ব্যবসার মাধ্যম হচ্ছে ই-কমার্স ব্যবসা। আজকে এই লেখার মাধ্যমে ই-কমার্স ব্যবসা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে গাইডলাইন প্রদান করার চেষ্টা করব।

আমি ব্যক্তিগত ভাবে অনেক কন্টেন্ট রাইটিং করেছি ই-কমার্স ব্যবসার উপর। এবং এই কারনে ই-কমার্স ব্যবসা বিষয়ে আমার একটি বিস্তারিত ধারনা আছে। আমি চেষ্টা করব এই লেখার মধ্য দিয়ে ই-কমার্স বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার।

ই-কমার্স ব্যবসা কথা চিন্তা করলে সর্ব প্রথম যে কোম্পানির নাম গুলো মাথায় আসে তাহল Amazon and Alibaba. এই দুইটি কোম্পানি মাধ্যমে সমস্ত বিশ্ব ই-কমার্স ব্যবসাকে চিন্তে পেরেছে।

ই-কমার্স ব্যবসায় সফল হতে হলে সঠিক প্লানিং করতে হবে। প্লানিং ব্যতিত ই-কমার্স ব্যবসায় সফল হওয়া সম্ভব নয়।

NB: আপনি যদি মনে করেন কিছু টাকা ইনভেস্ট করে দেখবেন। তবে আমি বলব এই লেখাটি আপনার জন্য নয়। আপনি অন্য ভাবে অনলাইনে ব্যবসা করার কথা চিন্তা করতে পারেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে কিভাবে সফল ব্যবসা করা যায় তার বিস্তারিত আলোচনা জানতে চাইলে……. সফল ভাবে অনলাইন ব্যবসা করার উপায়

ব্যবসায়িক রিসার্স

ব্যবসায়িক রিসার্স

বর্তমানে প্রতিটি সচেতন ব্যবসায়ি রিসার্স করা ব্যতিত এক টাকা কোথাও ইনভেস্ট করে না। রিসার্স ব্যবসার লাভ, ক্ষতি এবং ভবিষ্যৎ নির্ধারন করে।

আপনি অনলাইনে বা অফলাইনে যে ব্যবসা করেন না কোন তার জন্য উপযুক্ত রিসার্স বা মতামত নেওয়া উচিত। বাংলাদেশে প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে একটি বিষয় আমাকে খুব আবাক করেছে। কেন জানি না আমি এই বিষয়টা বুঝতাম কিন্তু কাউকে বলতে পারতাম না। এবং আমার মনে হয় প্রতিটি শিক্ষিত ছেলে মেয়ে তা বুঝতে পারে।

উদাহরন দিয়ে বিষয়টা আলোচনা করা যাকঃ কোন এক কারনে এই বছর কৃষকরা আলুর দাম বেশি পাচ্ছে। ঠিক পরের বছর আবার আলুর দাম কম পাচ্ছে। এর কারন হচ্ছে যোগান বেশি চাহিদা কম। অথবা যে বছর আলুর দাম বেশি সেই বছর চাহিদা বেশি যোগান কম। বিষয় টা তা কিন্তু নয়, কারন চাহিদা কখনো কমে না বরং বাড়ে। তাহলে প্রশ্নটা হচ্ছে সমস্যা টা কোথায়। আসলে সমস্যাটা হল চাহিদার তুলনায় যোগান বেশি।

এবং যোগান বেশি হওয়ার কারন হচ্ছে ফলন বেশি অথবা চাহিদার থেকে বেশি জমিতে চাষ করা হয়েছে।

প্রতিটি বিষয় নজর রাখতে হবে যেন সব কিছু ঠিক থাকে। সবাই আলু চাষ করছে বলে আপনাকেও করতে হবে তা কিন্তু নয়। খুব ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যে আপনি কি করবেন।

সুতরাং ব্যবসা শুরু করার আগে মার্কেট, পণ্য, যোগান, চাহিদা, ব্যয়, লাভ, মার্কেটিং, ইত্যাদি বিষয় নিয়ে পরিপূর্ণ রিসার্স করতে হবে।

WordPress Website Design And Customization

ই-কমার্স ব্যবসা পরিকল্পনা

ব্যবসায়িক প্লানিং

কর্ম পরিকল্পনা করা ব্যবসা শুরু জন্য অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ি করতে হবে। এমন টা নয় আজকে এই কাজটা করলাম কালকে আবার অন্যটা। কাজ করতে হবে ধাপে ধাপে।

একটা পরিকল্পনা তৈরি করুন কোন কাজটি আগে করবেন। আমি একটি কাজের নিষ্ট দিচ্ছি যদিও প্রতিটি কাজের ধরন অনুযায়ি কাজ ভিন্ন ভিন্ন হয়।

  • ওয়েবসাইট তৈরিঃ ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি প্রথম ধাপটাই হচ্ছে ওয়েবসাইট তৈরি। তার পূর্বে ই-কমার্স নাম বাছাই করতে হবে।
  • অ্যাপ তৈরিঃ ওয়েবসাইট তৈরি করার সাথে সাথে অ্যাপ তৈরি করতে হবে। কারন অ্যাপ ছারা ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়।
  • আফিস ডিজাইনঃ প্রথম অবস্থায় অনেক বড় আফিস করতে না পারলে ছোট খাটো একটি আফিস তৈরি করুন। আফিস ডিজাইন করে অনেক টাকা লষ্ট করা দরকার নেই।
  • কর্মচারি নিয়োগঃ বেসিক কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে। যে সকল কর্মচারি ছাড়া আফিস চালানো সম্ভব নয় তাদের নিয়োগ দিতে হবে।
  • প্রডাক্টঃ যে সকল প্রডাক্ট বিক্রি করবেন তার মিনিমাম একটি স্টক করুন। খুব বেশি স্টক তৈরি করার দরকার নেই।
  • বাজেটঃ প্রতি ক্ষেত্রে কত টাকা ব্যয় হবে তার উপর বাজের তৈরি করুন। খুব ছোট ছোট বিষয় সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বাজেট তৈরি করতে হবে। আপনি যদি একটি কমল কিনেন তার খরচ সহ বাজেটের মধ্যে থাকতে হবে।
  • মার্কেটিংঃ কর্মচারি নিয়োগ করার সময় অবশ্যই একজন ডিজিটাল মার্কেটার নিয়োগ দিতে পারবে। কারন একজন ডিজিটাল মার্কেটারেই পারবে আপনার ব্যবসাকে সফলতার সীমায় নিয়ে যেতে।

ই-কমার্স ব্যতিত অন্য সকল অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া জানুন

ই-কমার্স ব্যবসায় সমস্যা

ব্যবসায়িক সমস্যা

সময়ঃ ই-কমার্স ব্যবসায় সব থেকে বড় সমস্যা সময়। একটি ওয়েবসাইট সম্পূর্ণ ভাবে তৈরি করে মার্কেটে আসতে মিনিমাম ৩ হতে ৪ মাসে সময় লাগবে। তার থেকে বেশি সময় লাগতে পারে। এখন চিন্তা করুন ৩ হতে ৪ মাস ধরে আপনাকে আফিস চালাতে হবে।

ইনভেস্টমেন্টঃ ই-কমার্স ব্যবসার জন্য ইনভেস্টমেন্ট একটি বড় সমস্যা। প্রথম অবস্থায় আপনার ইনভেস্টমেন্ট দরকার হবে ১৫ লক্ষ থেকে ২০ লক্ষ টাকার মত। দেখুন ছোট করে ই-কমার্স ব্যবসা হয় না। হ্যাঁ, আপনি চাইলে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে প্রথম অবস্থায় ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

প্রডাক্ট ডেলিভারিঃ পণ্য ডেলিভারি ই-কমার্স ব্যবসায় বড় সমস্যা। যদিও বাংলাদেশে এখন তৃতীয় পক্ষ তৈরি হয়েছে পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার ক্ষেত্রে। এবং আমার মনে হয় অল্প কিছু দিনের মত প্রডাক্ট ডেলিভারি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

রিটার্ন প্রডাক্টঃ ই-কমার্স ব্যবসায় সব থেকে বড় সমস্যা পণ্য রিটার্ন। কোন একটি পণ্য বিক্রয় করার পর সেটা আবার ফেরত নেওয়া খুবেই ঝামেলার এবং রিক্সের। এই ক্ষেত্রে রিটার্ন প্রডাক্টের যে পলিসি তৈরি করবেন তা যে সঠিক ভাবে তৈরি করা হয়।

২০২১ সালের অনলাইনে ব্যবসা করার নতুন আইডিয়া

যা কখনো চিন্তা করবেন না

Business thinking

আপনি যদি চিন্তা করেন আজ ওয়েবসাইট ওপেন করে দুই দিন পর অর্ডার পাওয়া শুরু হবে, তা কিন্তু নয়। ওয়েবসাইট ওপেন করার পর ভালো ভাবে মার্কেটিং করুন, অর্ডার পাবেন।

কখনো উচ্চ অঙ্কাখা করবেন না। সততার সাথে ব্যবসা করুন একটা সময় আপনার স্বপ্ন পূরণ হবে। কেউ যদি বলে দুই এক বছরের মধ্যে আপনি লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করবেন তাবে বিশ্বাস করে গাঁ ভাসিয়ে দিবেন না। কারন সফলতা এমনি ভাবে আসে না, সফলতা আসে রাত দিন এক করে দেওয়া পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে।

যা হোক আমার দেওয়া উপদেশ গুলো অন্য ভাবে নিবেন না। হয়তো এটাও ভাবতে পারেন আমি কেন ই-কমার্স ব্যবসা করি নাই। কারন প্রতিটি মানুষের জীবন-যাপন, উদ্দশ্য, লক্ষ, স্বপ্ন, ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন হয়।

ই-কমার্স ব্যবসা বিষয়ে রিসার্স প্লান দরকার হলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা ই-কমার্স ব্যবসার উপর A To Z প্লানিং করে থাকি।

বিস্তারিত আরও পড়ুর